দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হামলার হুমকি সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে বলে সতর্ক করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
এলিসি প্রাসাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, এই হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পের স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্স রাশিয়ার হাইব্রিড হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলেও দাবি করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। এসব হামলার কোনোটি জবাবহীন থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইউরোপের বেশ কয়েকজন নেতা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর অঙ্গীকার পরীক্ষা করতে রাশিয়া হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে।
হাইব্রিড যুদ্ধ বা হাইব্রিড হামলা বলতে সাধারণত সরাসরি সামরিক হামলার বাইরে সাইবার হামলা, নাশকতা ও অপতথ্য ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অনেক সময় তৃতীয় পক্ষ বা প্রক্সি ব্যবহার করা হলেও রাশিয়া বরাবরই এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে ফ্রান্সের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে গত মাসের ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন ম্যাক্রোঁ। টাস্ক বলেছিলেন, ইউক্রেনকে সমর্থনকারী পোল্যান্ডসহ ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোতে রাশিয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপীয় দেশ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি আরও তীব্র হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনে ইউরোপের প্রচেষ্টা ভেঙে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী টাস্ক দেশটির সংসদ সদস্যদের বলেন, ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে রাশিয়ার। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভূখণ্ডে এমন হামলার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, হামলার পর মস্কো সেগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করে ন্যাটো জোটে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
গত রোববার ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। হামলার কয়েক মিনিট আগেই সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একই রেলপথ দিয়ে যাওয়ার পর ট্রেনটির যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় ইউক্রেন।
এ ছাড়া ইতালি থেকে এস্তোনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিরক্ষা স্থাপনায় বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশ এসব ঘটনায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, ইউরোপে হামলার কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। তবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ইউরোপ রাশিয়াকে আক্রমণ করলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যুদ্ধ হবে এবং তা খুব স্বল্প সময়ের হবে।
এদিকে শুক্রবার রাশিয়া আবারও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে থাকা কোনো ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা রুশ ভূখণ্ডে হামলার জন্য ব্যবহার করা হলে সেগুলোকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইউক্রেনকে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সংঘাতের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে মস্কো।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।
ম্যাক্রোঁ জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো সুরক্ষায় ফরাসি সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জি-৭-এর বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে গ্যাসের মজুত নিয়েও আলোচনা করা হবে বলে জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
ম্যাক্রোঁ বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি ইস্যুতে জি-৭-এর বৈঠক হবে। সেখানে সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে প্রধান অংশীদারদের অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে। সম্ভাব্য প্রয়োজনে কৌশলগত জ্বালানি মজুত ব্যবহারের বিকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/